Thursday, July 25, 2013

তারতিলের সাথে কুরআন পাঠ --- Reciting the Quran with Tarteel


তারতিলের সাথে কুরআন পাঠ

 ( Reciting the Quran with Tarteel ) 



  روى الحسن أن النبي صلى الله عليه وسلم , مر برجل يقرأ آية ويبكي , فقال : ( ألم تسمعوا إلى قول الله عز وجل : " ورتل القرآن ترتيلا " هذا الترتيل )
আল-হাদীস ==>> ইমাম  হাসান রাঃ হতে বর্ণিত , আল্লাহর রাসুল সাঃ একদা এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি কুরআন পাঠ করছিলেন আর কাঁদছিলেন । নবীজী সাঃ বললেন, তোমরা কি শোন নাই আল্লাহ যা বলেছেন
 ورتل القرآن ترتيلا 
"কুরআন পড় তারতিলের সাথে "
--------- এই হল তারতিলের সাথে কুরআন পাঠ । ========>>
http://ejabat.google.com/ejabat/thread?tid=3fda40bf0acf1d0e         LINK


খতমে তারাবি : একটি প্রস্তাব

লেখকঃ  দিদার-উল আলম 


আমরা যা-ই করি, যা-ই হই আর যেখানেই থাকি না কেন সর্বাবস্থায় আল্লাহ আমাদের সাথেই
আছেন, আমাদেরকে দেখছেন, আমাদের কথা শুনছেন, আমাদের হিসাব রাখছেন। সূরা আল হাদিদে বর্ণিত হয়েছে ‘আর তিনি তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন; তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন।’ (সূরা হাদিদ : আয়াত-৪)।, আল্লাহ সর্বত্র হাজির থাকেন, সব কিছু দেখেন।

কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহ লক্ষ করেন : কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কেও নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, কেউ যখন কুরআন তিলাওয়াত করে আল্লাহ কুরআন তিলাওয়াত লক্ষ করেন। আল্লাহ উপস্থিত থাকেন। আল্লাহর উপস্থিতির মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াত হয়ে থাকে। সূরা ইউনুসের ৬১ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,
وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِن قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ ۚ وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِن ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ [١٠:٦١] 
 ‘তুমি যে অবস্থায়ই থাকো এবং কুরআনের যে অংশই তিলাওয়াত করো এবং তোমরা যা কিছু করো এসব অবস্থাতেই আমি তোমাদের দেখতে থাকি  লক্ষ করতে থাকি। তোমার প্রতিপালকের কাছে অণু  পরিমাণ জিনিসও গোপন থাকে না  পৃথিবীতে, না আকাশে এবং তার চেয়ে ছোট এবং তার চেয়ে বড় এমন কিছু নেই, যা এক স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।’

মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির কারো কারো চাওয়া : আমাদের দেশে বেশির ভাগ খতমে কুরআন তারাবির মুসল্লিরা নিজে যে মসজিদে তারাবি পড়েন সে মসজিদে কতটুকু সময় ব্যয় হয় আর পার্শ্ববর্তী মসজিদে কতটুকু সময় ব্যয় হয় তার তুলনা করে থাকেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাফেজগণকে আরেকটু দ্রুত পড়ার অনুরোধ করে থাকেন। তারাবির নামাজে মুসল্লি বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে মসজিদ কমিটির লোকজনও আরেকটু দ্রুত পড়ার বিষয়ে হাফেজগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন। অনুরোধ রেখে অনেক হাফেজ দ্রুত পড়েন আর অনেকে তিলাওয়াতের ন্যূনতম হক বজায় রেখে যেভাবে পড়ার দরকার সেভাবে পড়েন। অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, বেশির ভাগ খতমে কুরআন তারাবিতে তিলাওয়াত বোঝাই সম্ভব হয় নাÑ দু-চারটি (মদ্দের হরফ বা শেষে টান যুক্ত) শব্দ ছাড়া, সুরার মাঝখানের এবং শেষের শব্দ ছাড়া।

তারাবির নামাজও নামাজ : যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই তারাবির নামাজকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য নামাজের মতো তারাবির নামাজের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, রুকু, সিজদাসহ সব কিছু যথাযথভাবে আদায় করা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। যেনতেনভাবে তারাবির নামাজ আদায় করে তৃপ্তি হয়তো পাওয়া যায়, পরহেজগারির আমেজ অনুভব করা যায়; কিন্তু নামাজের হক এতে আদায় হয় না।

শুধু খতমে কুরআন বা কুরআন তিলাওয়াতই যথেষ্ট নয় : সূরা মুজাম্মিলের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছেÑ ‘ধীরস্থিরভাবে স্পষ্টরূপে কুরআন তিলাওয়াত করো।’ এ আয়াত থেকে আমাদের অবশ্য মনে রাখতে হবে, নামাজে (তারাবির নামাজেও) শুধু কুরআন পাঠ-তিলাওয়াতই যথেষ্ট আর কাম্য নয়, বরং তারতিলের সাথে সঠিক পাঠ, যথাযথভাবে তিলাওয়াত কাম্য ও জরুরি।

মাত্র দশ মিনিট বেশি বরাদ্দ করুন : মুসল্লি বা কমিটির তাগাদা, অনুরোধ বা অনুযোগের কারণে তারাবি নামাজ দ্রুত পড়লে সময়ের পার্থক্য সাধারণভাবে ১০ মিনিটের বেশি হয় না। রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসে, সওয়াব অর্জনের ভরা মওসুমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, দুনিয়ার শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য এবং পরকালীন নাজাতের জন্য খতমে কুরআন তারাবিতে নামাজ দ্রুত পড়তে যে সময় ব্যয় হয়, তার সাথে সর্বোচ্চ আরো ১০টি মিনিট যোগ করার জন্য মুসল্লি, মসজিদ কমিটির সদস্য ও হাফেজগণের কাছে অনুরোধ করছি।

তারাবির সময় নির্ধারণে একটি প্রস্তাব : মাহে রমজানে মুসল্লিরা ভিন্ন স্থানে, ভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ পড়লেও যাতে কুরআনের কোনো অংশ শোনা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য প্রতি রাতে তারাবির নামাজে কুরআন শরিফের কতটুকু তিলাওয়াত করতে হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। মাহে রমজানে খতমে তারাবির নামাজে কুরআন তিলাওয়াতে প্রতি রাতে ন্যূনতম কতটুকু সময় ব্যয় করতে হবে, তাও নির্ধারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। যা বাংলাদেশের সচেতন মুসল্লিদের প্রাণের দাবি। এ ক্ষেত্রে প্রথম ছয় দিনের জন্য এবং পরবর্তী ২১ দিনের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ অথবা ২৬ রমজান রাতে খতমের হিসাব ধরে ন্যূনতম সময় নির্ধারণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আরেকটি পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। দ্বীনদার, ওলামা-মাশায়েখ, হাফেজগণের ও বিশেষজ্ঞ আলেম সমাজের সমন্বয়ে কোনো রকম অঙ্গহানি ছাড়া, ত্রুটিমুক্তভাবে তারাবির নামাজ আদায়ে কমপক্ষে যতটুকু সময় প্রয়োজন, তা বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারণ করার অনুরোধ করছি। ওই ব্যাপারে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ কুরআনের প্রতি প্রকৃত দরদ আছে এমন ব্যক্তি বা সংগঠনও নজর দিতে পারেন, সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিতে পারেন। ====>>
http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/3850       Post Link 


No comments:

Post a Comment